বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) বিশ্ব সিনেমায় হিরো বা নায়কের চরিত্র ছিল আদর্শিক এবং নৈতিকতায় ঘেরা। ১৯০৫ সালের পরবর্তী সময় থেকে ধীরে ধীরে ‘অ্যান্টি-হিরো’ বা ধূসর চরিত্রের ধারণা তৈরি হতে থাকে। ২০২৬ সালের এই ১৯শে মার্চ মুক্তি পেতে যাওয়া ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সিনেমায় আমরা রণবীর সিংকে দেখছি এক চরম প্রতিহিংসাপরায়ণ ‘হামজা’ হিসেবে, যা প্রথাগত নায়কের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে।
এই ট্রেলার ও সিনেমার ৫টি প্রধান ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রথম কিস্তিতে জসকিরত সিং রঙ্গি হিসেবে রণবীর যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, দ্বিতীয় পর্বে তা এক ভয়ঙ্কর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ‘হামজা’ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালের সাদা-কালো আমলের রৈখিক (Linear) চরিত্রের বদলে ২০২৬ সালের দর্শক এমন জটিল বিবর্তন পছন্দ করে। লিয়ারি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের নেশা এবং রহমান বালোচকে হত্যার পর সৃষ্ট শূন্যস্থান পূরণে হামজার ‘শের-এ-বালোচ’ হয়ে ওঠা এক রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক সমীকরণ।
রণবীর সিং ট্রেলার শেয়ার করে লিখেছেন, "বলেছিলাম না, এবার বিষয়টা ব্যক্তিগত।"
তাত্ত্বিক প্রভাব: ব্যক্তিগত প্রতিশোধ যখন সিনেমার মূল চালিকাশক্তি হয়, তখন অ্যাকশন কেবল মারপিট থাকে না, তা আবেগের বিস্ফোরণে পরিণত হয়। আদিত্য ধরের পরিচালনায় এই ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ সিনেমাটিকে প্রথম পর্বের চেয়েও বেশি ডার্ক এবং ইনটেন্স করে তুলেছে।
সিনেমায় লিয়ারি অঞ্চলের আধিপত্য নিয়ে যে লড়াই দেখানো হয়েছে, তা মূলত ক্ষমতার দ্বন্দ্বের এক বাস্তব চিত্র।
বিবর্তন: ১৯০৫ সালের আঞ্চলিক সংগ্রামের ধরণ থেকে ২০২৬ সালের মাফিয়া বা গ্যাংস্টারদের লড়াই অনেক বেশি প্রযুক্তিগত এবং নিষ্ঠুর। রণবীর সিংয়ের হিংস্র রূপ এই অস্থিরতাকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছে।
রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি সঞ্জয় দত্ত এবং আর মাধবনের মতো ভার্সেটাইল অভিনেতাদের উপস্থিতি সিনেমাটিকে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছে।
পর্যবেক্ষণ: রাকেশ বেদী এবং সারা অর্জুনের মতো অভিনয়শিল্পীদের অন্তর্ভুক্তি গল্পের গভীরতা বাড়াবে। বিশেষ করে সঞ্জয় দত্তের স্ক্রিন প্রেজেন্স হামজা চরিত্রের চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ খ্যাত আদিত্য ধর আবারও প্রমাণ করেছেন তিনি হাই-অকটেন অ্যাকশন ড্রামা তৈরিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
উপসংহার: ১৯ মার্চ মুক্তি পেতে যাওয়া এই সিনেমাটি ২০২৬ সালের প্রথম কোয়ার্টারের সবচেয়ে বড় হিট হওয়ার সম্ভাবনা রাখছে। রণবীরের ভয়ঙ্কর রূপ এবং রুদ্ধশ্বাস ট্রেলারটি দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টানার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী।
১৯০০ সালের সেই নির্বাক চলচ্চিত্র থেকে ২০২৬ সালের এই ডলবি অ্যাটমস ও ৪-কে সিনেমাটোগ্রাফি—প্রতিশোধের গল্প সবসময়ই দর্শকদের প্রিয়। রণবীর সিং তাঁর ‘জসকিরত’ থেকে ‘হামজা’ হয়ে ওঠার যে মেটামরফোসিস দেখিয়েছেন, তা বিশ্বমানের। ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশে সুস্থ বিনোদনের যে বিকাশ ঘটছে, সেখানে বিশ্বমানের এমন কন্টেন্ট দর্শকদের রুচি পরিবর্তনে সহায়ক হবে।
তথ্যসূত্র: রণবীর সিংয়ের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল (৭ মার্চ ২০২৬), আদিত্য ধর প্রোডাকশন প্রেস রিলিজ এবং পালস বাংলাদেশ মুভি রিভিউ আর্কাইভ।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও নিবিড় বিনোদন, ট্রেলার ব্রেকডাউন ও বলিউড ইনসাইট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |